চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে একটি ছোট বিমান বহুতল ভবনে আঘাত করার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক অবসাদে ভোগা পাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি ভবনের দিকে পরিচালিত করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ৬৬ বছর বয়সী পাইলট লিউ নিহত হন। বিমানটি ভবনে আঘাত হানার পর নিচে পড়ে গেলে আরও ১৩ জন আহত হন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, লিউ দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা ও মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি একাই বসবাস করতেন। তদন্তকারীরা তার ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করেছেন, যেখানে একাধিকবার মৃত্যুর ইচ্ছার কথা উল্লেখ ছিল।
আহতদের মধ্যে একজন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও অন্যদের চিকিৎসা চলছে। তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও পরে সেগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে চীনা কর্তৃপক্ষ। ফলে দেশের ভেতরে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওগুলো দেখতে পারছেন না।
তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার দিন পাইলট পিঙ্গু এলাকার একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেন। প্রথম ফ্লাইটে একজন যাত্রী থাকলেও দ্বিতীয়বার তিনি একাই বিমান চালান। পরে নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে বিমানটি ১০৯ তলা বিশিষ্ট ‘চায়না ঝুন’ ভবনের দিকে নিয়ে যান।
ঘটনার পর ছোট বিমান পরিচালনায় নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে চীন সরকার। পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তিনটি বিমান সংস্থার ছোট বিমান পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

