দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে (ভাটিয়ারী) অবস্থিত দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ‘জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’-এর ৫৪.৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গাজীপুরে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’ (BOF) বা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা-র কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের জন্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসেই সেনা সদরের পক্ষ থেকে এই জমির আবেদন করা হয়েছিল। অবশেষে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এই জমি সেনাবাহিনীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) আধুনিকায়ন এবং ‘ফোর্সেস গোল’-এর লক্ষ্য পূরণে সেনাবাহিনীর এই নতুন উপ-কারখানায় তৈরি হবে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হলো ১০৫ মিমি ও ১৫৫ মিমি দূরপাল্লার আর্টিলারি শেল। বর্তমান বিশ্বের মোস্ট হেভিওয়েট ও ন্যাটো স্ট্যান্ডার্ডের এই শক্তিশালী কামানের গোলাগুলো এখন থেকে আরও বড় পরিসরে দেশেই তৈরি হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১৫৫ মিমি-র একেকটি গোলা প্রায় ৪৫-৫০ কেজি ওজনের হয়, যা ৩০ থেকে ৪০ কিমি দূরের শত্রুর বাঙ্কার ও সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
ইতিমধ্যে তুর্কি প্রতিরক্ষাপ্রযুক্তি কোম্পানি ‘REPKON’-এর আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই হাই-ক্যালিবার গোলাগুলো গাজিপুরের কারখানায় উৎপাদন শুরু করা হচ্ছে। এছাড়াও সীতাকুণ্ডের এই নতুন কারখানায় তৈরি হতে পারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান চালিকাশক্তি এবং গর্বের BD-08 অ্যাসল্ট রাইফেল, সাব-মেশিনগান (SMG) এবং BD-15 হালকা মেশিনগান (LMG)। পাশাপাশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হ্যান্ড গ্রেনেড (যেমন Arges 84 BD), টিএনটি এবং বিভিন্ন ধরণের ডেটোনেটর, ইনফ্যান্ট্রি মর্টার শেলসহ বিভিন্ন ক্যালিবারের কোটি কোটি রাউন্ড লাইভ ও ব্ল্যাঙ্ক বুলেট।
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, ভাটিয়ারী军事 একাডেমি এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাছাকাছি হওয়ায় এই অঞ্চলটি সামরিক লজিস্টিকস ও কাঁচামাল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। একই সাথে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এখান থেকে যেকোনো জরুরি মুহূর্তে সহজে অস্ত্রের সাপ্লাই নিশ্চিত করা যাবে। এই মেগা সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাত যেমন স্বাবলম্বী হবে, তেমনি গোলাবারুদ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমায় দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।

