রাজধানীজুড়ে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য মহানগরের অপরাধীদের মূলোৎপাটন করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া।অপরাধ দমনে রায়েরবাজার এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
আজ রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন:
গত ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে ৫৮ জন মূল চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ১৫২ জন অপরাধী এখন পুলিশের হেফাজতে। গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কিছু বড় মাদকের চালান জব্দ করা হয়েছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়া চক্রের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বর্তমানে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করছে না, তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মারামারিতে লিপ্ত রয়েছে।” তবে নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর ও এর আশপাশের এলাকার ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন কমিশনার। তিনি জানান, ওই এলাকার অপরাধ দমনে রায়েরবাজার এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপন করা হবে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ব্লকেড পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করতে বসানো হচ্ছে অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা ও তল্লাশিচৌকি।
ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে সন্দেহভাজন আসামিদের যাচাই-বাছাই করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হচ্ছে।
ডিবি, সিটিটিসি এবং সাইবার টিম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং করছে।
ডিএমপি কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বড় বিপণিবিতান ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিয়মিত ও ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

