নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মেঘনা নদীর নাগরিয়াকান্দি সেতু থেকে একটি ফুটফুটে কুকুরের গলায় ভারী ইট বেঁধে নির্মমভাবে নদীতে ছুঁড়ে ফেলার সাম্প্রতিক এক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অসহায় প্রাণীর প্রতি এই আদিম ও নিষ্ঠুর আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও নজরে আসে। ঘটনার আকস্মিকতা ও নিষ্ঠুরতা দেখে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) বিকেলে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ আলী, সে নরসিংদীর কামারগাঁও এলাকার আবদুর রবের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাগরিয়াকান্দি সেতুতে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় এক নারী পরম মমতায় কুকুরটিকে লালন-পালন করতেন। কিন্তু কয়েক দিন আগে কুকুরটি মাটিতে গর্ত করায় ক্ষিপ্ত হয় মোহাম্মদ আলী। এর প্রতিশোধ নিতে বুধবার সে কুকুরটিকে ধরে গলায় শক্ত করে ইট বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় সেতু থেকে নিচে নদীতে ফেলে দেয়।
সেখানে উপস্থিত এক যুবকের ধারণ করা এই নির্মমতার ভিডিও বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। অবলা প্রাণীর এমন করুণ আর্তনাদ ও মৃত্যু দেখে নেটিজেনরা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ভিডিওটি ভাইরালের পর বৃহস্পতিবারই নিজ এলাকা থেকে আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পশুর প্রতি এমন চরম অমানবিক আচরণের ভিডিওটি শুক্রবার (২৬ জুন) নজরে আসার পরপরই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অপরাধীর মানসিক বিকৃতি ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবেশবাদী ও সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন বলেন:
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক নির্দেশনায় আমরা দ্রুততম সময়ে মূল অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছি। এই পাশবিক ঘটনায় উসকানিদাতা বা ভিডিও ধারণের সময় সহযোগিতাকারী অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত ‘প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯’ এর অধীন একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পরিবেশ ও প্রাণী অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশে অবলা প্রাণীদের ওপর নির্যাতন নতুন কিছু নয়। তবে এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতে পশুপ্রেমীদের নিরাপত্তা ও প্রাণী রক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

