সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার দক্ষিণ বৌলাশী,মিজাপুর ইউনিয়ন এলাকায় একটি বিষধর সাপ বাউন্ডারি জালে আটকে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সঞ্জয় চক্রবর্তীর বাসার বাউন্ডারি জালে সাপটি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশ কর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি শনাক্ত করেন। তারা জানান,উদ্ধারকৃত সাপটি শঙ্খিনী সাপ,যা বাংলাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ হিসেবে পরিচিত। এর বিষ মূলত নিউরোটক্সিক প্রকৃতির,যা স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
পর্যবেক্ষণে তারা ধারণা করেন,সাপটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জালে আটকে ছিল,যার কারণে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় বাউন্ডারি জালের একটি অংশ কেটে সাপটিকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে,শঙ্খিনী সাপ সাধারণত শান্ত স্বভাবের হলেও অত্যন্ত বিষধর। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এদের কয়েকটি প্রজাতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বনাঞ্চল,বিশেষ করে চা বাগান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ডোরা শঙ্খিনী সাপের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
পরিবেশকর্মী রাজীদপ দেব দীপ জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের বনাঞ্চলে এ ধরনের সাপ বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা অন্যান্য সাপসহ ছোট প্রাণী খেয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,বনাঞ্চল সংকোচন,ঝোপঝাড় কাটা,এবং গ্রামীণ এলাকায় ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব সাপ মাঝে মাঝে লোকালয়ে চলে আসে। বর্ষা মৌসুমে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজেও এদের উপস্থিতি বাড়তে পারে।
কর্মীরা স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘরে বা আশপাশে এমন সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

