আবু সাঈদ, নিজস্ব প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে নরসিংদীর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানাই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এ সংকটের বাস্তব চিত্র দেখা গেছে জেলার পাঁচদোনা সাকোরার মোড়ে অবস্থিত জাহানারা কটন টেক্স লিমিটেড-এ। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি ও আধুনিক মেশিন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশ (অর্ডার) থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম সৌরভ বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাহানারা কটন টেক্স লিমিটেড-এর জিএম ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কারখানায় পর্যাপ্ত অর্ডার রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার কখনো খুব কম সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সময়মতো পণ্য না পৌঁছানোয় কিছু ক্রেতা ইতোমধ্যে অন্য দেশে অর্ডার দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।”
শিল্প উদ্যোক্তারা অবিলম্বে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

