মোঃ হারুন উর রশিদ:
নীলফামারীতে মাদক, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, যুব সমাজের সদস্যকে মারধর-হুমকী এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে জেলা সদরের দারোয়ানী টেক্সটাইল যুব সমাজের উদ্যোগে পাহাড়ের মোড় এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে কুন্দপুকুর, চড়াইখোলা, ইটাখোলা, সোনারায় ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। তারা মাদক, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর দারোয়ানী টেক্সটাইল বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশে চড়াইখোলা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম রেজার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-০২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আল ফারুক আব্দুল লতিব।
তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।”
প্রধান অতিথি আরও বলেন, মাদকের গোড়া থেকে তুলে ফেলতে হবে। কারণ এসবের অধিকাংশই আসে বাইরে থেকে। কিভাবে আসে সেটাও দেখবে হবে। আপনারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যান সবাই আপনাদের পাশে আছে।
যুবসমাজের সদস্য মোঃ হারুন উর রশিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও নীলফামারী জজ কোর্টের জিপি আবু মো. সোয়েম।
তিনি বলেন, “মাদক, জুয়া ও কিশোর অপরাধ আজ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যুব সমাজ যদি সচেতন হয়, তাহলে মাদকমুক্ত ও সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব।” এর আগে নীলফামারীতে মাদকের বিরুদ্ধে এমন সুন্দর আয়োজন করা হয়নি। টেক্সটাইল যুব সমাজকে এই আন্দোলন ধরে রাখতে হবে। এক কথায় শেষ নীলফামারীকে মাদকমুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক অবক্ষয় রোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপরাধ যুব সমাজের সদস্যদের হয়রানি বন্ধের দাবিও জানানো হয়।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামের নীলফামারী নায়েবে আমীর ড. খায়রুল আনাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. কাজী আক্তারুজ্জামান জুয়েল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর ভূপতি কুমার বর্মণ, স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এ.বি.এম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, কুন্দপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাজাহান আলী চৌধুরী, চড়াইখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাকির মোল্লা, কুন্দপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়াও যুবসমাজের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ক্রিড়া সংগঠক মনিরুজ্জামান, হাফিজুল ইসলাম, অম্লাণ হোসেন স্থানীয় নুর ইসলাম, ইউপি সদস্য আব্দুল ওহাব, মনিরুজ্জামান মনিসহ অনেকে।
টেক্সটাইল যুব সমাজের সদস্য ও ভুক্তভোগী হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা মাদক, জুয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করে থাকি। এরআগে দুইদিন মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের হুমকি প্রদান করেছে। কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি। গত কয়েকদিন আগে মাদক ব্যবসায়ী ও ডিলার জিয়া ও তার দলবল হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথায় আঘাত করে ফাটিয়ে দেয় এবং আমার সহযোদ্ধা আরও দুইজনকে মেরে গুরুতর আহত অবস্থায় গুম করার চেষ্টা করে। ওইদিন যুব সমাজ সহ স্থানীয়রা এগিয়ে না আসলে আজকে হয়তোবা আমি এই সমাবেশে বক্তব্য দিতে পারতাম না। আবার তারাই আমাদের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করে। আমরা বলতে চাই, সমাজকে সুন্দর করতে গিয়ে যদি মামলার শিকার হতে হয় হবো তবুও টেক্সটাইলকে মাদক মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্। প্রশাসনসহ কর্তৃপক্ষকে বলতে চাই, তারা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সবাই জানে। তাই তাদের করা মামলা প্রত্যাহার করতেই হবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদক, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

