ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে জাতীয় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ঘটনাকে রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শাসক জোটের সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দেশটির সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
রিজিজুর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই মোদির এই মন্তব্য এসেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
সংঘর্ষে আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬৫ জনের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি খোলা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে আন্দোলনকারী ও পুলিশ—উভয় পক্ষের সদস্য রয়েছেন।
এ ছাড়া অনশনরত অন্তত ১০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সবার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
হাসপাতালের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য এবং বাকিরা আন্দোলনকারী। গুরুতর আহত কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক তরুণী মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন। তবে তিনি কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও অন্তত ২৪ জন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ভর্তি হওয়া কারও আঘাত আশঙ্কাজনক নয়।

