সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভার উপজেলার দেওগাঁও-রাজাশন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ হৃদয় নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। তিনি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে হৃদয়কে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১ কেজি ২৪৫ গ্রাম হিরোইন উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত হৃদয়ের বাড়ি সাভার উপজেলার দেওগাঁও গ্রামে সে মৃত মতি মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় তার মাদক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল বলেও জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় হৃদয় ছাত্রলীগের পক্ষে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অংশ নেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর তিনি রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এলাকাবাসী জানায়, তিনি সাভার থানা ছাত্রনেতা মাহবুব সামীরের আপন ছোট ভাই এবং পার থানা কৃষকদলের সদস্য সচিব রবিন হোসেনের শ্যালক।
এছাড়া জানা যায়, পৌর যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তাজুল ইসলামের অনুসারী ও ঘনিষ্ঠজন হিসেবে হৃদয়কে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে সামনের সারিতে দেখা যেত।
অভিযোগ আছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির বিস্তার ঘটান। তার কর্মকাণ্ডে দেওগাঁও ও রাজাশন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
হৃদয়ের গ্রেফতারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘদিন আতঙ্কে ছিলাম, এখন কিছুটা হলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

