জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক টাইফুন ‘বাভি’। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এটি ওই অঞ্চলে আঘাত হানতে যাওয়া অন্যতম ভয়াবহ ও মারাত্মক ঝড় হতে পারে বলে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জাপানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) ভোরে টাইফুনটি তাইওয়ানের কাছাকাছি অবস্থিত জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রসর হওয়ার সময় টাইফুনটির কেন্দ্রে সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬২ কিলোমিটার (১০০ মাইল)।
টাইফুনের প্রভাবে সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জ ও এর আশপাশের অঞ্চলের আকাশপথ এবং নৌপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে আগামীকাল শনিবার (১১ জুলাই) নির্ধারিত অনেক ফ্লাইটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সমুদ্র উত্তাল থাকায় উপকূলীয় এলাকার ফেরি টার্মিনাল, পর্যটকদের কয়েকটি জনপ্রিয় সৈকত ও ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত ইশিগাকি দ্বীপে টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও অবরুদ্ধ দশা এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা আগেভাগেই শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রী মজুত করতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, স্থানীয় একটি বড় সুপারমার্কেটে ইনস্ট্যান্ট নুডলসসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের তাক প্রায় খালি হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের আগাম সতর্কতামূলক প্রস্তুতি
কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনার পর দ্বীপের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি নিজেদের বাড়িঘর সুরক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রবল বাতাসের তোড়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অনেকেই ঘরের জানালা শক্ত করে বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বাড়িঘর ও দোকানের সামনে বাতাস প্রতিরোধী বিশেষ জাল (উইন্ডব্রেক নেট) লাগিয়েছেন।
উপকূলীয় পার্ক ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

