ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল উত্তেজনার এই উত্তাল সময়ে ইরানের তিনজন শীর্ষ নেতা বিশ্ব মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। সাধারণ রাজনীতিকদের তুলনায় তাঁদের অনন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব এবং কূটনৈতিক দূরদর্শিতা বিশ্বের অগণিত মানুষকে বিস্মিত করেছে। তাঁরা কেবল রাজনীতির মাঠে নন, বরং নিজ নিজ পেশাতেও ছিলেন সেরাদের সেরা, আর ঠিক এই কারণেই তাঁরা আজ বিশ্ববাসীর কাছে অনুপ্রেরণার নাম।
এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাজনীতির ময়দানে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও পেশাগতভাবে তিনি একজন খ্যাতিমান হার্ট সার্জন। তাঁর মানবিকতা এতটাই প্রবল যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঝেমধ্যেই তিনি অপারেশন থিয়েটারে ফিরে যান মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে। একজন দক্ষ চিকিৎসকের সূক্ষ্মতা ও ধৈর্য নিয়ে তিনি যেভাবে ইরানকে পরিচালনা করছেন, তা বিশ্বজুড়ে তাঁর এক বিশাল ভক্তশ্রেণি তৈরি করেছে।
দ্বিতীয় নামটি হলো ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পুরো বিশ্বে বর্তমানে যাঁর মেধা ও রণকৌশল নিয়ে তোলপাড় চলছে। পেশায় তিনি একজন পিএইচডি স্কলার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ। আমেরিকার তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখেও তিনি যেভাবে দমে না গিয়ে পাল্টা রণকৌশল সাজিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে বিশ্ব অর্থনীতিতে ইরানের প্রভাব বজায় রেখেছেন, তাতে তাঁর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়েছে পুরো বিশ্ব। আমেরিকার সামনে মাথা নত না করে কূটনৈতিক লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার এই প্রবল ব্যক্তিত্ব তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি কেবল একজন দক্ষ রাজনীতিক বা অর্থশাস্ত্রবিদই নন, বরং একজন পেশাদার বিখ্যাত পাইলট। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যখন সরকারি সফরে ইরানি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে গিয়েছিল, তখন গালিবাফ নিজেই বিমান চালিয়ে তাঁদের গন্তব্যে নিয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়া ফাইন্যান্স বা বিনিয়োগের জটিল অংকগুলো তিনি এতটাই ভালো বোঝেন যে, টুইট যুদ্ধের মাধ্যমে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও তিনি অর্থনৈতিক পাঠ শিখিয়েছেন।
প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং যুদ্ধকৌশল—সবক্ষেত্রেই ইরান যে কতটা সমৃদ্ধ, তা এই নেতাদের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। আমেরিকা হয়তো পারমাণবিক শক্তির ভয় দেখায়, কিন্তু মেধা ও কৌশলের লড়াইয়ে এই উচ্চশিক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে ইরান নিজেকে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করেছে। বিশ্বের মানুষ তাঁদের কেবল রাজনীতিক হিসেবে নয়, বরং তাঁদের অবিশ্বাস্য প্রতিভা ও সাহসিকতার কারণেই আজ তাঁদের ভক্তে পরিণত হয়েছে।

