আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় টিভির এক সাংবাদিক ও যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সময় টিভির সাংবাদিক সহ আহত হয়েছে চার জন চবি শিক্ষার্থী।
গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা ইসলামিয়া হোটেলে খাবার খেয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় ৩ নম্বর বাসে উঠতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করা হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন সময় টিভির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিন আবির। এ সময় হামলাকারীরা তার ফোন কেড়ে নেয় এবং তাকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে। এতে তার হাত ভেঙে যায়।
হামলায় আহত হন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আলিমুল শামীম এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর ইসলামও। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিরের অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, আবিরের বাম হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং এক্স-রের প্রয়োজন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘ঘটনা ঘটনার পরপরই আমাদের টহল টীম ঘটনাস্থলে আসে। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের আওতায় আনবে।
বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ফেসবুকে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সময় টিভির সাংবাদিক, স্নেহের ছোট ভাই জাহিন আবিরের উপর হামলাকারী ইমনকে ভোর ৪ টার দিকে গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার আগে রাত ২:৩০ এর দিকে গ্রেফতার করে পূর্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর আক্রমণে অভিযুক্ত নাঈমকে।আমি সব সময় বলে এসেছি অন্যায়, অবিচার ও অপরাধের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স ছিল, আছে এবং থাকবে। অপরাধীর অপরাধী ব্যতীত আর কোন পরিচয় নেই। বিচার সুনিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

