সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ওয়াশিংটনকে সরাসরি ‘পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান’-এর চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মার্কিন পক্ষ থেকে সামরিক উস্কানি ও হামলা অব্যাহত রাখা হলে ইরান আর কেবল সমপর্যায়ের পাল্টা জবাবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি (IRIB) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেনারেল রেজায়ি হুঙ্কার দিয়ে বলেন: “ইরান আর শুধু হামলার জবাবে সমপর্যায়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। (আমেরিকা হামলা অব্যাহত রাখলে) এই অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না। যুদ্ধ চলাকালে আলোচনার নীতি এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।”
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরান এখন পর্যন্ত চরম কৌশলগত ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করে আসছিল। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে ক্রমাগত আগ্রাসনের মুখে তেহরান তাদের রণকৌশল পুরোপুরি বদলে ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রেজায়ি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ইরানের মূল মনোযোগ যুদ্ধের পরিধি বাড়ানো কিংবা অন্য কোনো দেশে আক্রমণ চালানোর দিকে ছিল না। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে সংঘাতের অবসান ঘটানো।
কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আধিপত্য বিস্তারের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধ বন্ধের বাধ্যবাধকতা তৈরি করতেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তে ইরানি স্বার্থের ওপর একের পর এক বিমান হামলা চালানো হলে, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে একযোগে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা।

