মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের হাতে তিনি নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে বিষয়ে আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে—এমন দাবি সামনে আসার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের লক্ষ্যবস্তু। তাই সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।
তার ভাষায়, “যদি আমার কিছু ঘটে, তাহলে তাদের ওপর এমন মাত্রায় হামলা চালানো হবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় ট্রাম্পবিরোধী ব্যানার ও তাকে হত্যার আহ্বানসংবলিত স্লোগান প্রদর্শনের ঘটনাও নিজের মন্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তেহরান বহু বছর ধরেই তাকে হত্যার চেষ্টা করছে। সাক্ষাৎকারের শেষদিকে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, আপনারা আমার অনুপস্থিতি অনুভব করবেন।”
এদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে লক্ষ্য করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি তৈরি হলে মুহূর্তের মধ্যে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইরান সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ সামরিক জবাব দেবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশও আগেই দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে অন্তত এক বছর ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার নতুন পরিকল্পনা করেছে বলে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহে এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে।
আরেকটি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আসা এই সর্বশেষ তথ্যকে নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমন দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কাও বাড়ছে।

