বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল এবং ইসলামের নামে বা মসজিদের নামে তারা যা করেছে, তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। মডেল মসজিদ প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রতিটি মসজিদভিত্তিক সুনির্দিষ্ট তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুকের (নোয়াখালী-২) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইনের অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে সংসদে এই উত্তর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক তাঁর প্রশ্নে উল্লেখ করেন, তাঁর নির্বাচনি এলাকার সেনবাগ উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় প্রথমে ১৩ কোটি টাকা ধরা হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। তিনি এই প্রকল্পে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ এনে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা, তা জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি আজই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব, মসজিদভিত্তিক তদন্ত পরিচালনা করে দেখা হোক— কীভাবে একটি মসজিদের নির্মাণ ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে ২১ কোটিতে উন্নীত হলো, মোট কত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং মোট কতটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।”
অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও তাঁর নির্বাচনি এলাকার দুর্গাপুর মডেল মসজিদের অবস্থান ও নকশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সংসদকে জানান, মসজিদটি একটি বড় পুকুরের পেছনে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে যেতে মুসল্লিদের একটি সেতু পার হতে হয়, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ মুসল্লিরা সুবিধাজনকভাবে এই মসজিদটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জয়নুল আবেদীন ফারুক একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য। তিনি যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, তা অন্য অনেক মডেল মসজিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। কারণ, বিগত সরকারের আমলে অর্থ লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এমন বহু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মডেল মসজিদ প্রকল্পে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মতো একই মাত্রার দুর্নীতি হয়েছে এমন দাবি তিনি করছেন না।
তিনি আরও বলেন, “মডেল মসজিদ নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। তবে প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা এবং কীভাবে একটি মসজিদের ব্যয় ১৩ কোটি থেকে ২১ কোটিতে পৌঁছেছে, এটি অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন।”
দেশের অর্থনীতি নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রস্তুত করা শ্বেতপত্রের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে বড় বড় প্রকল্পের জন্য প্রথমে বিশাল বাজেট নেওয়া হয়েছে। এরপর বাস্তবায়নের সময় বারবার বাড়ানো হয়েছে এবং তার সাথে প্রকল্প ব্যয়ও একাধিকবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো, তারপর দুর্নীতি করা, সময়সীমা বাড়ানো এবং পরে ব্যয় আরও বৃদ্ধি করা— এটিই ছিল বিগত আমলের নিয়ম।

