শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
মাসিক বেতনসহ দৈনিক হাজিরা তথা মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৪ দফা দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও করেছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৪ টার দিকে তারা পৌরসভা কার্যালয়ে এসে অবস্থান নেয়। এর আগে তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন হরিজন পল্লীর ২ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।
ঘন্টাব্যাপী এই ঘেরাওকালে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, সৈয়দপুর হরিজন বাসফোর সম্প্রদায়ের সভাপতি শ্রী বিজলী রাম বাসফোর, সাধারণ সম্পাদক কালু বাসফোর, নতুনবাবুপাড়ার শান্ত বাসফোড়, রসুলপুরের জাবেদ বাসফোড়, মুন্সিপাড়ার সুমতি বাসফোড়, মুন্সিপাড়ার তুতিয়া বাসফোড় ও অজয় বাসফোড়, সুরকি মহল্লার মিঠু বাসফোড় প্রমুখ।
এসময় তারা সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসকের কাছে তাদের ১৪ দফা দাবি লিখিত আকারে তুলে ধরেন। সৈয়দপুর বাসফোর হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ণের জন্য তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সর্বনিম্ন বেতন ১৮ (আঠার) হাজার টাকা দিতে হবে তার সাথে সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সর্বনিম্ন হাজিরা ৬ (ছয়) শত টাকা দিতে হবে।
কথায় কথায় কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না। অর্থাৎ দৈনিক হাজিরা ও স্থায়ী কর্মীদের কমপক্ষে ০৩ মাস পূর্বে অবগত করতে হবে। বাসফোর হরিজন সম্প্রদায়ের কলোনীগুলোতে বিনা মুল্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। পয়ঃনিস্কাসনে ভেকু গাড়ী বন্ধ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে কর্মীর উর্দ্ধতন পদে যেমন: জামাদার, ইন্সপেক্টর প্রভৃতি পদে হরিজন শিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন বেকার যুবকদের নিয়োগ দিতে হবে। লাইফ ইনসুরেন্স করতে হবে।
মাতৃকালীন ছুটি স্ব-বেতনে কমপক্ষে ৬ (ছয়) মাস দিতে হবে। প্রয়োজনে বিনা বেতনে আরো ৬ (ছয়) মাস ছুটি বর্ধিত করতে হবে। পরিবেশ সম্মত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা ভাতা, চাকরি শেষে অবসরকালীন ভাতাসহ সকল প্রকার সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত পোশাক ও পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে হরিজন সম্প্রদায়ের কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এছাড়া কথায় কথায় নির্যাতন, হেয় প্রতিপন্ন বন্ধ ও সামাজিক সমমর্যাদা দিতে হবে এবং কর্মরত অবস্থায় উর্দ্ধতন কর্মকর্তা কর্তৃক কর্মী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সেচ্চার হতে হবে ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করার আশ্বাস দেন পৌর প্রশাসক। এরপর ঘেরাও কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

