জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের সদর উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫)।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের একটি ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মো. হাসিবুর রহমান সরদার (৩৮)। তিনি ক্ষেতলাল উপজেলার বুড়াইল সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষেতলাল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হাসিবুর রহমান সরদার ভুক্তভোগী নারীর প্রতিবেশী। ভুক্তভোগীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করায় তিনি সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে পূর্বে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন বলে জানা যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল বিকেলে ভুক্তভোগী নিজ বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হাসিবুর রহমান কৌশলে বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন এবং শ্লীলতাহানির পাশাপাশি জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “হাসিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের বিভিন্ন নারীকে হয়রানি করে আসছে। যে কাউকে পছন্দ হলে তাকে নানা কৌশলে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করত। কেউ রাজি না হলে তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। সে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থাকায় তার প্রভাবের কারণে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি। আমার পরিবারও তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
র্যাব-৫ জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্ষেতলাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

