জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নৌ-পুলিশের গণহারে চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের দাবি, চাঁদপুর জেলার মহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও চাঁদপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা শরীয়তপুর অঞ্চলে এসে জেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন।
দাবিকৃত টাকা না দিলে মাছ ধরার ট্রলার বা নৌকাসহ আটক করে বিভিন্ন ধারায় মামলা দেওয়া হচ্ছে।
এ অভিযোগের প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুলারচর লঞ্চঘাট এলাকায় পদ্মাপাড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন ভুক্তভোগী জেলেরা। এতে অংশ নেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও জেলা মৎস্যজীবী দলের নেতারা।
স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার দুলারচর এলাকার প্রায় এক হাজার জেলে প্রতিদিন পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সম্প্রতি নদীতে নামলেই তাঁদের কাছ থেকে নৌকা প্রতি মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলেদের অভিযোগ, চাঁদপুর জেলার মহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও চাঁদপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা, দুলারচর এবং নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকার পদ্মা নদীতে গিয়ে এ চাঁদাবাজি করছেন। এতে আতঙ্কে অনেক জেলে নদীতে নামতে পারছেন না। পদ্মাপাড়ে মাছ ধরার অসংখ্য নৌকা অলস পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
দুলারচর ও চরভাগা এলাকার জেলে কবির হোসেন, মানিক মাঝি ও সোহেল মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, নৌ-পুলিশ বিভিন্ন সময় নদীতে এসে নৌকা প্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে মামলা দেয়।
সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারোয়ার আলম বলেন, শরীয়তপুর জেলার ভেতরে ঢুকে চাঁদপুর জেলার নৌ-পুলিশ টোকেন বাণিজ্য ও গণহারে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দিলে ১ থেকে ২ লাখ টাকার মামলা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নৌ-পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং নদীতে মাছ ধরতে ভয় পাচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁদপুর জেলার নৌ-পুলিশ সুপার। মুঠোফোনে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

