যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচনে আবারও নিজের আধিপত্য প্রমাণ করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক লুৎফুর রহমান। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই বারায় লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন অ্যাসপায়ার পার্টি নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
শনিবার ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, লুৎফুর রহমান চতুর্থবারের মতো টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
কাউন্সিলের মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে লুৎফুর রহমানের জোট যে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে, তা ব্রিটিশ স্থানীয় রাজনীতির নতুন এক ইতিহাস:
অ্যাসপায়ার পার্টি: ৩৩টি আসন (নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা)।
লেবার পার্টি: ৫টি আসন।
গ্রিন পার্টি: ৫টি আসন।
কনজারভেটিভ পার্টি: ১টি আসন।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটস: ১টি আসন।
মেয়র নির্বাচনে লুৎফুর রহমান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলামকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
লুৎফুর রহমান (অ্যাসপায়ার): ৩৫,৬৭৯ ভোট (৩৮.৮%)।
সিরাজুল ইসলাম (লেবার): ১৯,৪৫৪ ভোট (২১.১%)।
হিররা খান আদেওগুন (গ্রিন পার্টি): ১৯,২২৩ ভোট (২০.৯%)।
বিজয়ী হওয়ার পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লুৎফুর রহমান বলেন, “মানুষ ভয় ও বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে আশার রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা এবং সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে জনগণ আবারও আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।” তিনি নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি এবং বর্ণবাদী অপপ্রচারের অভিযোগও তোলেন।
লুৎফুর রহমানের শেকড় বাংলাদেশের সিলেট জেলার ওসমানীনগর (সাবেক বালাগঞ্জ) উপজেলায়। একজন সলিসিটর হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে কমিউনিটির অধিকার আদায়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১০ সালে ব্রিটেনের প্রথম বাংলাদেশি ও কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যালঘু মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, লুৎফুর রহমানের জনপ্রিয়তার মূল কারণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগ। বিশেষ করে তাঁর নেওয়া কয়েকটি পদক্ষেপ ব্যাপক প্রশংসিত:
দরিদ্র পরিবারের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স সহায়তা বৃদ্ধি। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল ও শিক্ষা সহায়তা ভাতা চালু রাখা। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ। অভিবাসী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সহায়তা।
২০১৫ সালে আদালতের রায়ে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এবং কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞার পর অনেকেই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি দেখেছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালে পুনরায় নির্বাচিত হওয়া এবং ২০২৬-এর এই বিশাল জয় প্রমাণ করে যে, পূর্ব লন্ডনের রাজনীতিতে লুৎফুর রহমান ও তাঁর দল ‘অ্যাসপায়ার’ এখন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি।

