ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার উদযাপনের মাঝে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ফুটবল বিশ্বের শীর্ষ সংস্থা ফিফা (FIFA)-র তদন্তের মুখে পড়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
গত বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারানোর পর আলবিসেলেস্তে তারকা লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও জিওভানি লো সেলসো মাঠের ভেতরে একটি ব্যানার তুলে ধরেন। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল— ‘Las Malvinas son Argentinas’ (যার বাংলা অর্থ: ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’)।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার আচরণবিধি অনুযায়ী, খেলায় যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় কিংবা উসকানিমূলক বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফিফার এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, স্বাধীন ডিসিপ্লিনারি কমিটি ম্যাচের অফিশিয়াল রিপোর্ট এবং ভিডিও ফুটেজ মূল্যায়ন করছে।
ব্যক্তি ও দলের দায়: ব্যানারটি খেলোয়াড়দের হাতে কীভাবে পৌঁছাল তা স্পষ্ট না হলেও, ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জরিমানার মাত্রা: সাধারণত এ জাতীয় রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের দায়ে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা বা সতর্কবার্তা জারি করে ফিফা।
ঘটনাটিকে ফিফার নিয়মের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে এর কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটেনের ব্যবসামন্ত্রী পিটার কাইল। ডাউনিং স্ট্রিটের (যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) মুখপাত্র এক কড়া প্রতিক্রিয়ায় জানান:
“বিশ্বকাপ ফুটবল হয়তো আমাদের হাতে ওঠেনি, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। সেখানকার অধিবাসীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং ফকল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি কখনোই পরিবর্তন হবে না।”
১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধের বিষয়টি স্পর্শকাতর কি না—সংবাদমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস বলেন, “আমরা আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ ও ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও চাওয়াকে কোনোভাবেই হতাশ করতে পারতাম না।”
আগামী রোববার নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালের মহারণে নামার আগেই এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উত্তাপ তৈরি করল।

