কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে এক পৈশাচিক নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। বাগানের পরিত্যক্ত জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে গড়ে তোলা কৃষক সাদেক মিয়ার টমেটো ক্ষেতে মংগলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।
এতে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার কৃষি উপকরণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে । পরদিন সরজমিন খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, কৃষক সাদেক হোসেন , চেরাগ মিয়া ও কাজল মিয়া দীর্ঘ পরিশ্রম ও ধার-দেনা করে পাত্রখোলা চা বাগানের পরিত্যক্ত জমিতে টমেটোসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজীর চাষ করে অর্থনৈতিক সাফল্যের স্বপ্ন দেখছিলেন । কিন্তু সেই স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার আগেই রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে পুরো ক্ষেতটি জ্বালিয়ে দেয়।
সকালে নিজের সাজানো ক্ষেত পুড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিঃস্ব হওয়া কৃষকরা।কৃষক সাদেক জানান, টমেটো গাছ লাগানোর জন্য ৭০ হাজার বাঁশের খুঁটি, ২০ টি কীটনাশক স্প্রে মেশিন, ৬০ বান্ডিল মালচিং পেপারসহ প্রায় ৮ লক্ষ টাকার কৃষি উপকরণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা এখন ঋণের বোঝা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।কৃষক আব্দুল মতিন, জুবেল মিয়া,জাহাঙ্গীর হোসেন, মিনার মিয়া,সবুজ মিয়া প্রমুখের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, তারা শতাধিক কৃষক কয়েক বছর ধরে পাত্রখোলা চা বাগানের পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন।
সম্প্রতি চা বাগান ম্যানেজার তাদেরকে এ জমিতে চাষাবাদ করতে বাধা প্রদান করেন। কৃষকরা কিছু সময় চেয়েছেন। কিন্তু এরমধ্যেই এরকম পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে তারা হতবিহ্বল।কৃষক সাদেক হোসেন,আব্দুল মতিনসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, আগুন দিয়ে কৃষকদের সর্বস্বান্ত করার হীন প্রচেষ্টায় বাগান ম্যানেজার জড়িত। কেউ কেউ মনে করছেন ম্যানেজার নির্দেশে মংগলবার রাতের আধঁারে এ ঘটনা ঘটে। তবে পাত্রখোলা চা বাগান ম্যানেজার ইউসুফ আলী চা বাগানের বাইরের কৃষকদেরকে আর চাষাবাদ না করতে বলেছেন জানিয়ে কৃষি উপকরণ পোড়ানোর ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কমলগঞ্জ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত রায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনাসহ সহায়তার আশ্বাস দেন। এলাকাবাসী এই জঘন্যতম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে আর কোনো কৃষকের এমন সর্বনাশ না হয়।

