আমিরুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি;
পঞ্চগড়ে প্রতিবেশির বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িঘর ভাংচুর, হামলা করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
জমি দখলের পর ওই মুক্তিযোদ্ধার পাঁচ শতক জমিতে লাগানো গাছপালা এমনটি টিউবওয়েল, পানির পাম্প ও লেট্রিন ঘিরে রেখেছে।
এর ফলে ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার গোসল পর্যন্ত করতে পারছেন না। যেতে পারছেন না টয়লেটেও। এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে ওই পরিবারটি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা শহরের জালাশী মোড় এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এ সকল অভিযোগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. আছিম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে আছিম উদ্দিন বলেন, ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনটি দলিলে তিনি ১৪ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে সাড়ে তিন শতক জমি অন্যত্র হস্তান্তর করে বাকি সাড়ে ১০ শতক জমিতে বাড়িঘর ও গাছপালা লাগিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন।
গত ১২ এপ্রিল দুপুরে প্রতিবেশি মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে তাজুল ইসলাম ও তাসিন ইসলাম এবং মা তাজমা বেগম ৫ শতক জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে গাছপালা, টিউবওয়েল, পানির পাম্প ও লেট্রিন টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে নেয়। তাদেরকে বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। বিষয়টি ঢাকায় অবস্থানরত তার বড় ছেলেকে জানালে তিনি জাতীয় জরুরী সেবা-৯৯৯ এ ফোন দিলে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
তারা আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিলে ওই দিনই পঞ্চগড় সদর থানায় ৩ জনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়।
কিন্তু কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেন, তারা এক শতক জমির মামলা করে আমার ৫ শতক জমি গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছে। বিবাদীদের হুমকির কারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এর আগেও বিবাদী পক্ষ আমাকে হত্যার হুমকি দিলে আমি পঞ্চগড় সদর থানায় একটি জিডি করি। পরে সেটি মামলা হিসেবে নেয়ার পর বর্তমানে মামলাটি পঞ্চগড় সিনিয়র সহকারী জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি একজন বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা। জীবন বাজী রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতা এনেছিলাম। বিগত ৫০ বছর ধরে এই জায়গায় বসবাস করছি। তাই ন্যায় বিচার ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আছিম উদ্দিন আমাদের থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

