মাসুদুর রহমান ইফতি
হাকালুকি হাওরজুড়ে এখন সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের উঠান ভরে ওঠার কথা ছিল। হাসিমুখে ঘরে ধান তোলার উৎসব হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু অকাল বন্যায় দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ এখন অথৈ পানির নিচে। যে ধান গোলায় তুলে সারা বছরের অন্নের নিশ্চয়তা মেলার কথা, সেই ধানই এখন পানির তলায়। বুকফাটা আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে হাওর পাড়ের আকাশ-বাতাস।
৩ মে সরেজমিনে কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকের হাহাকার। অকাল বন্যা অনেক জায়গায় ধান কাটার সময়টুকুও দেয়নি। বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান কাটছেন চাষিরা। পানিতে ভেজা সেই ধান থেকে আদৌ চাল মিলবে কি না, তা নিয়েও চরম শঙ্কায় তারা।
হাওর পাড়ের কৃষক আব্দুল কালাম (৬৫), আব্দুল হক (৫০), লিল মিয়া (৩৯), বাসির তালুকদার (৪৫), রেনু মিয়া (৪৯), তাজুল মিয়া (৫০), নামর মিয়া (৭০), রহমান মিয়া, ছইদ আলী (৪৫), হাজি মুক্তাদির (৬৪), চিনু মিয়া (৫৫), জয়নুল ইসলাম (৫০) ও নাজিম উদ্দিন (২৯) জানান, ‘সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর ধার-দেনা করে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। অকাল বন্যায় সব হারিয়ে গেছে। এখন পরিবারের মুখে কী তুলে দেব? ঋণই বা শোধ করব কীভাবে, সেই চিন্তায় চোখে ঘুম নেই।
কৃষকদের জোর দাবি, ‘সরকার যেন দ্রুত এলাকায় ধান কাটার মেশিন দেয়। মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটতে পারলে কিছুটা হলেও রক্ষা পেত। হাজার টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। এত পানির মধ্যে কেউ ধান কাটতে চায় না।
এদিকে কাঁচা ধান শুকাতে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কিছুটা রোদের দেখা মিললেও ঝুঁকি নিয়ে সড়কের দু’পাশে ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন নারী-পুরুষ। তাদের অভিযোগ, ‘এখন পর্যন্ত সরকার বা কৃষি অফিস থেকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘চলতি বছর উপজেলায় বোরো ধান ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি হাকালুকি হাওরে প্রবেশ করায় বোরো ধান তলিয়ে যায়। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৯২ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকার থেকে বরাদ্দ এলে তাদের মাঝে সহায়তা দেওয়া হবে।


