সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিলেট বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলম। এ সময় তিনি বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের মধ্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে একটি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিদল রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের একামধু এলাকার ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান,রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার, এমটি (ইপিআই), স্বাস্থ্য পরিদর্শক,সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক,স্বাস্থ্য সহকারী,কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বন্যাকবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেন।
এরপর প্রতিনিধিদল মনসুরনগর ইউনিয়নের কদমহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আশ্রয় নেওয়া ১২৭টি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং বন্যাজনিত রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলম বলেন,বন্যাদুর্গত এলাকায় কোনো মানুষ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন,সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া,চর্মরোগ, জ্বরসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি,বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন,জেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম নিয়মিত কাজ করছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসাসামগ্রী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় পরিচালক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বন্যাদুর্গত মানুষের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

