রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা’র কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডক্টর দিপু সিদ্দকীর বিরুদ্ধে একটি মহলের মিথ্যা অপবাদ, হীন ষড়যন্ত্র এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ডক্টর সুকোমল বড়ুয়া।
বুধবার (২০ মে ২০২৬) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিক্ষক সমাজের ওপর চলমান এই ন্যাক্কারজনক হামলার কঠোর প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া বলেন, “শিক্ষক সমাজ একটি জাতির মেরুদণ্ড। অথচ বর্তমানে পবিত্র এই শিক্ষা ও শিক্ষক সমাজকে নানাভাবে কলুষিত করার চেষ্টা চলছে। অধ্যাপক ডক্টর দিপু সিদ্দীকী একজন বিনম্র, প্রতিভাবান ও প্রাজ্ঞ শিক্ষক। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি রয়েল ইউনিভার্সিটিতে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করছেন। তাঁর একাগ্রতা ও সততা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয় পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডক্টর দিপু সিদ্দীকী কেবল একজন শিক্ষকই নন, বরং একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক হিসেবেও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে সুপরিচিত। তাঁর লেখনীতে সবসময়ই ন্যায়বিচার, শান্তি ও নৈতিকতা চর্চার প্রতিফলন দেখা যায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অসৎ চক্রের একটি চিহ্নিত মহল কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল যুবক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডক্টর দিপু সিদ্দকীর বিরুদ্ধে চরম মানহানিকর ও ঘৃণ্য অপবাদ প্রচার করছে। এমনকি তাঁকে হত্যার হুমকিও প্রদান করা হয়েছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অধ্যাপক বড়ুয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে কনভোকেশন অনুষ্ঠানের দোহাই দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্য, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করা ও লাঞ্ছিত করার মতো হীন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ‘মব কালচার’ বা গণবিক্ষোভ তৈরি করে শিক্ষকদের অপমান এবং শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করা আইনের চরম লঙ্ঘন।”
বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে কোনোভাবেই ‘মব সন্ত্রাস’ বরদাস্ত করা যায় না উল্লেখ করে অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া সংশ্লিষ্টদের এই গর্হিত কর্ম থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। অন্যথায় অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে বর্তমান সরকার, প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শিক্ষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এই প্রবীণ শিক্ষাবিদ।

