ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর অর্থনৈতিক ধাক্কা ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে গ্রিসে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারের মাসিক বাজেট বড় চাপের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস দেশটির পার্লামেন্টে জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দেশের দুটি প্রধান তেল শোধনাগারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় আগস্টের শেষ পর্যন্ত পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১০ সেন্ট এবং ডিজেলের দাম ৫ সেন্ট কমানো হবে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় গ্রিক পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও দেশটি দীর্ঘ ঋণসংকট কাটিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে এবং সরকার কর কমানো ও বেতন বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে, তবুও মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ভ্রমণের মৌসুমে জ্বালানির চাহিদা বাড়ে। এ সময় অনেক গ্রিক নাগরিক শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি বা দ্বীপাঞ্চলে যান। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি তাদের পারিবারিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার সাময়িক মূল্যছাড়ের উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে সুপারমার্কেট ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে সরকার জ্বালানি, সার এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও চালু করেছিল, যাতে যুদ্ধজনিত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা কমানো যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার আরও অস্থির হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে ইউরোপের জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে গ্রিসের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর পরিবার ও অর্থনীতিতে।

