শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ জনে, একই সঙ্গে আরও ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রায় ১৫ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, আর প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করেছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ডিএমসি)-এর বরাতে আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ গত এক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস ও হড়কা বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৪০ জনের বেশি মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
শুক্রবার সকালে দ্বীপদেশটির ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি বয়ে যায়। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনিবার এটি শ্রীলঙ্কা থেকে সরে গিয়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এর আগেই দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
ডিএমসি জানায়, কিছু এলাকায় ৩০০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে ভূমিধস ও হড়কা বানের ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা বলেন, “আমরা ১২৩ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছি, আর আরও ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।”
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বন্যার পানি শহর ও গ্রাম এলাকা ভাসিয়ে নিচ্ছে। ডিএমসি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারের কাজ চলমান। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারছে না।
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ একটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে শুরু হলেও পরে দ্রুত তীব্র হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। দেশটির নদীর পানিস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় সরানোর জন্য ডিএমসি সতর্ক করেছে। কেলানি নদী উপত্যকার জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে রাজধানী কলম্বো।

