এম আর সজিব, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষক সমাজের একাংশ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অভিযোগগুলোকে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছে।
তাদের ভাষ্য, উপজেলা শিক্ষা অফিসে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় নেমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তারের সঙ্গে প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের তালিকা প্রস্তুত করা এবং প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, লুৎফা আক্তারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে সম্প্রতি একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে একজন সাংবাদিককে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি শিক্ষা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে হুমকি দেওয়ার কথাও শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোলেমান মিয়া বলেন, আমি সততা ও নিয়মনীতি মেনে দায়িত্ব পালন করছি। একটি বিশেষ মহল ব্যক্তিস্বার্থে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। আমি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার পারিবারিক জীবনেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জান কামরুল সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষক, বিদ্যালয় তালাবদ্ধ থাকা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে অনিয়মের ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষকদের একাংশের দাবি, উপজেলা শিক্ষা অফিসে চলমান শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের মতে, দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করে প্রশাসনিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

