২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক হত্যাযজ্ঞের ঘটনার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে এসে পৌঁছেছে। এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশন টিমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি বর্তমানে নিবিড় পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। আগামী ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) নির্ধারিত আইনি সময়সূচি অনুযায়ী এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরীতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত কাজ এখনও চলমান থাকায় দেশব্যাপী প্রকৃত নিহতের মোট সংখ্যা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
হাইপ্রোফাইল আসামি: মামলার আসামিদের তালিকায় শেখ হাসিনা ও জেনারেল আজিজ আহমেদ ছাড়াও রয়েছেন—
একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু। একই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।
তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি), র্যাব মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।
এদিকে মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া সরাসরি জানতে আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর সাহেব) নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারা এই ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
পটভূমি
২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে ঢাকার প্রবেশপথগুলো অবরোধ করে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির (তৎকালীন বিডিআর) যৌথ অভিযানে ‘অপারেশন সিকিউরড মতিঝিল’ পরিচালনার মাধ্যমে শাপলা চত্বর খালি করা হয়। ওই রাতের অভিযানে ব্যাপক গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

