শাহরিয়ার কবির,পাইকগাছা:
সরকারি অর্থ ব্যয়ে খনন করে উন্মুক্ত করা হয়েছিল খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের তালতলা-নাছিরপুর খাল। উদ্দেশ্য ছিল পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করা। কিন্তু বাস্তবে সেই খালই এখন কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির দখলে চলে গেছে। নিষিদ্ধ চায়না-দুয়ারী, নেট ও কাটিজাল পেতে খালের বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে রাখায় সাধারণ জেলে ও এলাকাবাসী মাছ ধরতে পারছেন না। প্রতিবাদ করলে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাবলের দুয়া থেকে কপিলমুনি কলেজ পর্যন্ত খালের বিভিন্ন স্থানে চায়না-দুয়ারী, নেট ও কাটিজাল পেতে পানিপ্রবাহের বড় অংশ আটকে রাখা হয়েছে। এতে শুধু মাছের স্বাভাবিক চলাচলই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, খালের পানিপ্রবাহও কমে যাচ্ছে। ফলে দ্রুত পলি জমে খাল আবারও ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে খনন করা খাল এখন কার্যত কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণে। সাধারণ মানুষ সেখানে মাছ ধরতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেক জেলে পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
রেজাকপুর গ্রামের জামাল গাজী বলেন, “আগে সকাল-বিকেল খালে নামলেই কিছু না কিছু মাছ পাওয়া যেত। এখন জাল পেতে পুরো খাল আটকে রেখেছে। মাছ ধরতে গেলে আমাদের তাড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদ করলে দা-কাছি নিয়ে ভয় দেখায়। সরকার খাল খনন করেছে, কিন্তু সেই সুবিধা আমরা পাচ্ছি না।”
এক স্থানীয় নারী বলেন, “আগে খাল থেকে মাছ এনে পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটানো যেত। এখন বাজার থেকে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় সন্তানদের মাছ খাওয়ানোও সম্ভব হয় না।”
এলাকাবাসীর দাবি, দখলকারীরা শুধু মাছ ধরার সুযোগই বন্ধ করেনি, খালের বিভিন্ন স্থানে জাল ও বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত করছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজননও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে খালটি আবারও দখল ও ভরাটের ঝুঁকিতে পড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে খাল থেকে সব ধরনের অবৈধ চায়না-দুয়ারী, নেট ও কাটিজাল অপসারণ করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারের জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কয়েক বছরের মধ্যেই খালটি আবারও পলিতে ভরাট হয়ে পড়বে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হবে, অন্যদিকে শত শত জেলে পরিবারের জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

