ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং আলোচিত দুই পরাশক্তি হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই লাতিন পরাশক্তির দ্বৈরথ দেখতে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত সবসময় মুখিয়ে থাকেন। আর সেই লড়াই যদি হয় বিশ্বকাপের মতো মহাকর্ষীয় মঞ্চে, তবে উন্মাদনার পারদ পৌঁছায় আকাশে। বিশ্বকাপের মঞ্চে সবশেষ ১৯৯০ সালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল।
এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৬ বছর (প্রায় সাড়ে তিন যুগ), কিন্তু বৈশ্বিক এই আসরে আর দেখা হয়নি দুই চিরশত্রুর। তবে ফুটবল ভক্তদের সেই অনন্ত অপেক্ষা এবার শেষ হতে পারে; সব সমীকরণ মিলে গেলে চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা!
চলতি বিশ্বকাপে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং নক-আউট পর্বের লাইন-আপ সেই কাঙ্ক্ষিত ‘সুপার ক্লাসিকো’র সম্ভাবনাকে তীব্র করে তুলেছে।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে ওড়ানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে লিওনেল মেসির রেকর্ডগড়া জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। টানা দুই জয়ে ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করে ফেলেছে আলবিসেলেস্তেরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নামবে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ জর্ডানের বিপক্ষে। সবকিছু ঠিক থাকলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই দ্বিতীয় রাউন্ডে (রাউন্ড অব সিক্সটিন) পা রাখবে আর্জেন্টিনা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স-আপ, যে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে আরেক লাতিন পরাশক্তি উরুগুয়ে।
অন্যদিকে,বিশ্বকাপের শুরুটা আশানুরূপ না হলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেলেসাওরা। হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপ টেবিলের সিংহাসন পুনরুদ্ধারের পর, নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক-আউট পর্বে পা রেখেছে ব্রাজিল। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হতে পারে এশিয়ান জায়ান্ট জাপান।
ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা—উভয় দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা টপকাতে পারে এবং পরবর্তীতে কোয়ার্টার ফাইনালের অগ্নিপরীক্ষা পার হতে পারে, তবে টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট অনুযায়ী সেমিফাইনালেই মুখোমুখি হবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৪ জুন, আজ থেকে ঠিক ৩৬ বছর আগে। ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেই হাইভোল্টেজ ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’ ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার মাঝমাঠ থেকে টেনে নেওয়া দুর্দান্ত ও জাদুকরী এক অ্যাসিস্ট থেকে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছিলেন গতিময় ফরোয়ার্ড ক্লদিও ক্যানিজিয়া। বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে এখন পর্যন্ত এটিই দুই দলের একমাত্র লড়াই।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার সেই সুযোগ তৈরি হওয়ায় ফুটবল দুনিয়ায় এখনই রোমাঞ্চের হাওয়া বইছে। সেমিফাইনালে দেখা হলে ব্রাজিল চাইবে ১৯৯০ সালের সেই হারের প্রতিশোধ নিয়ে ফাইনালে যেতে, আর অন্যদিকে নিজের শেষ বিশ্বকাপে চতুর্থ শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে মরিয়া লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ভক্তদের প্রার্থনা—সমীকরণ যেন এবার না মেলে ভুল!

