আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিলেও বাংলাদেশে আপাতত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কম। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতের উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত তেলের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এখনও বড় অঙ্কের লোকসান বহন করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৪ ডলারের বেশি ছিল, বর্তমানে তা ৭০ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে।
তবে বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রভাব পড়বে না। কারণ, সংস্থাটি এখনও তুলনামূলক বেশি দামে আমদানি করা জ্বালানি তেল বিক্রি করছে এবং গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে যে খরচ হচ্ছে, বিক্রয়মূল্য তার চেয়ে কম। ফলে ডিজেল বিক্রিতে এখনও লোকসান গুনতে হচ্ছে। যদিও পেট্রোল ও অকটেন বিক্রিতে কিছুটা লাভ হচ্ছে, তা সামগ্রিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে দেশের বাজারেও মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সরকারের রাজস্বনীতি, আমদানি ব্যয় এবং বিপিসির আর্থিক অবস্থাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও অন্যান্য জ্বালানির মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত এর সুফল পাবেন কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী ১ জুলাই ঘোষিত হতে যাওয়া নতুন মূল্যতালিকার দিকে তাই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

