খাদিমুল সরদার, বেরোবি প্রতিনিধি:
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) নিয়ে প্রকাশিত দুটি সংবাদকে ‘ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ মে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জড়িয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন, আর্থিক কাগজপত্র ও প্রামাণ্য নথি সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের কাছে সেসব তথ্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
একই সঙ্গে ৭ মে প্রকাশিত ‘নিয়োগপ্রার্থী নিজেই আবেদন যাচাইকারী’ শীর্ষক সংবাদটিরও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কমিটিতে একজন অধ্যাপক, একজন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার এবং সংস্থাপন শাখার একজন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত থাকেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কমিটির কোনো সদস্য নিজেই কোনো পদের জন্য আবেদনকারী হলে নিজের আবেদনপত্র যাচাইয়ের সময় তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকেন এবং অন্যত্র অবস্থান করেন। এটিকে একটি প্রতিষ্ঠিত ও স্বচ্ছ পদ্ধতি উল্লেখ করে সংবাদে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের ব্যাখ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী ৪র্থ গ্রেডের পদের জন্য ন্যূনতম ১২ বছরের অভিজ্ঞতার কথা বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা চেয়েছে। এছাড়া, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রেরিত ‘কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিয়োগের অভিন্ন নীতিমালা’-তেও ৪র্থ গ্রেডের পদের জন্য ১ম শ্রেণির চাকরিতে ন্যূনতম ১৩ বছরের অভিজ্ঞতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, একাডেমিক অগ্রগতি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্য যাচাই ও নৈতিক সাংবাদিকতার মানদণ্ড অনুসরণ করা সকল গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো পক্ষের বক্তব্য যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করা হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পত্রিকাকে অবিলম্বে সংবাদের সংশোধনী প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

