আবুল হাসনাত শামীম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছরও আম পাড়ার নির্ধারিত সময়সূচি ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ থাকছে না। গাছে আম পরিপক্ক হলেই তা সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে পারবেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ এবং বাজারজাতকরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জেলার আমচাষি, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, আড়তদার, রেলওয়ে, পরিবহন ও কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিসহ আম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু ছালেহ, জেলা উদ্যানতত্ত্ব ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরফ উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আমচাষিরা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা বরাবরই গাছে আম পাকার পর বাজারজাত করে থাকেন। তাই আলাদা করে ম্যাংগো ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন নেই।
সভায় রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ বছর ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন থাকছে না। তবে আম পরিবহনের সুবিধার্থে আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একটি ওয়াগন যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫৪ মেট্রিক টন আম রেলপথে পরিবহন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া ছুটির দিনেও যাতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে আম পরিবহন করা যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি বলেন, “সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ বছরও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ম্যাংগো ক্যালেন্ডার থাকছে না। পরিপক্ক হলেই গাছ থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারগুলোতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অপরিপক্ক আম বাজারে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

