সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর:
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে দীর্ঘদিন ধরে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ কয়লা বিক্রি ও সরবরাহ না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে ভেসে গিয়ে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খনির খোলা ইয়ার্ডে সংরক্ষিত কয়লার স্তূপে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কয়লার গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ কয়লা দীর্ঘদিন ধরে খনির সংরক্ষণ ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে এসব কয়লা বিক্রি কিংবা সরবরাহ না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রাখা কয়লার ওপর কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে কয়লার বড় একটি অংশ পানির সঙ্গে ভেসে ড্রেন ও খালে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে কয়লার স্তূপের নিচে পানি জমে ছোট ছোট স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়লার কিছু অংশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে কালো পানির সঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভেজা কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সচেতন নাগরিক মহল বলছে, যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও দ্রুত বিপণনের উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অপচয়ের মুখে পড়েছে। তারা খনির ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
খনির একাধিক শ্রমিক জানান, খনিতে উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও মজুত কয়লার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি কিংবা সরবরাহ না হওয়ায় খনির ইয়ার্ডে জায়গা সংকটও তৈরি হয়েছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে অচল বা আংশিক চালু থাকায় কয়লার চাহিদা কমে গেছে।
জানা গেছে, ১ নম্বর ইউনিট বছরে ২০ থেকে ২৫ বার বিকল হয়ে পড়ে এবং বারবার মেরামতের প্রয়োজন হয়। ৩ নম্বর ইউনিট গত তিন মাস ধরে মেরামতের কাজের মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে ২ নম্বর ইউনিট প্রায় আট বছর ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এ কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র খনি থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কয়লা নিতে পারছে না।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, বর্তমানে কয়লা ইয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন কয়লা মজুত রয়েছে। অথচ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিদিন মাত্র ৬ থেকে ৭ শত মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন কয়লার মজুত বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাহিদা কম থাকায় কিছু কয়লা মজুত রয়েছে। তবে দ্রুত কয়লা বিক্রি এবং সংরক্ষণের উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দিনাজপুর কয়লা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেন , রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ রক্ষায় আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় প্রতি বছরই এ ধরনের ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে, যা দেশের জ্বালানি খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

