শুধু জিপিএ-৫ নির্ভর প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে কারিকুলাম ও সিলেবাসে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন ফোরাম-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমিতি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, যা দূর করা জরুরি। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গুণগত শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সরকার এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছায়নি, তবে এ লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নের বাইরে গিয়ে প্রতিদিনের পাঠদান ও নিয়মিত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে পড়াশোনা করছে। তুলনামূলক কম খরচে উন্নত শিক্ষার সুযোগ থাকায় সেখানে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সরকার তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে চীনা ভাষা শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ পেতে পারে।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দু’দেশের শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরাও ফোরামে অংশ নেন।

