ট্রাম্পের একচ্ছত্র আধিপত্য ও নেতানিয়াহুর অসহায়ত্বে লেবানন যুদ্ধবিরতির নেপথ্য কাহিনী।ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ হাজির করেছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক প্রভাবই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। অতীতের যুদ্ধবিরতিগুলোর তুলনায় এবারের পার্থক্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্পের সপাট উত্তর ছিল—”পার্থক্য হলাম আমি”।
কথাটি উদ্ধত মনে হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ঠিক তেমনটাই দেখা গেছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে ইসরায়েল আমেরিকার প্রতিটি প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের মাধ্যমেই তারা সেই লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কিন্তু লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান নেতানিয়াহুর জন্য এক বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
ট্রাম্প যখন নেতানিয়াহুকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সাথে আলোচনার নির্দেশ দেন এবং আউন তাতে অস্বীকৃতি জানান, তখন ট্রাম্প আর কোনো কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অপেক্ষায় থাকেননি। তিনি সরাসরি সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করে দেন যে, ইসরায়েলের জন্য লেবাননে হামলা চালানো এখন থেকে ‘নিষিদ্ধ’।
এই যুদ্ধবিরতির পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল ইসরায়েলি প্রশাসনের জন্য চরম অবমাননাকর। গত বুধবার যখন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ পরিকল্পনার অনুমোদন দিচ্ছিলেন এবং ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা বাতিল হয়ে যাচ্ছিল, তার ঠিক পরদিনই ট্রাম্প এককভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ইসরায়েলের মন্ত্রীরা এই খবর তাদের নিজেদের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নয়, বরং ট্রাম্পের পোস্ট থেকে জানতে পারেন।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকাগুলোর ভাষ্যমতে, হিজবুল্লাহর হুমকি নির্মূল না হওয়ায় দেশটির উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা চরম হতাশায় ভুগছে এবং সেখানকার মেয়ররা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই ছিল। অথচ এই একই ইসরায়েলিরা আবার ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চাইছে, যা তাদের দ্বিমুখী ও ভীতু মানসিকতাকেই ফুটিয়ে তোলে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে, আমেরিকার অন্ধ সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের নিজস্ব কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। যারা মনে করে জায়নিস্টরাই পর্দার আড়ালে থেকে পুরো পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে, ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্ত তাদের সেই অতিরঞ্জিত ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করেছে।

