স্টাফ রিপোর্টার, এমএ আউয়াল আশিক:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় কৃষক কার্ড বিষয়ক অবহিতকরণ সভা, গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম. এ. জলিল, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জুবায়ের হোসেন, সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো কৃষক কার্ড কার্যক্রম। প্রকৃত কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তাদের দোরগোড়ায় সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, সেচ সুবিধা, কৃষি ঋণ, কৃষিযন্ত্র, ভর্তুকি, অনুদান, প্রশিক্ষণ, কৃষি বীমাসহ ১০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এজন্য প্রকৃত কৃষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন করা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নির্বাচিত তিনটি ওয়ার্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের প্রায় ৬০টি তথ্য সংগ্রহ করবেন। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের অবস্থান, জমির পরিমাণ, ফসল উৎপাদনসহ বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পুরো কার্যক্রম স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি কৃষকদের সঠিক তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডও কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করবে।
তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ব্লককে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে রসুনিয়া ইউনিয়নের তাজপুর ব্লক থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা প্রথম পর্যায়ে এ সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, ছবি এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন। একই সঙ্গে জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকের অবস্থান সংরক্ষণ করা হবে, যাতে তথ্য সংগ্রহে কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতির সুযোগ না থাকে।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক কৃষকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

