গোপালগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে বিচারকাজ চলাকালে এক বিচারকের ছুড়ে মারা পেপারওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী রক্তাক্ত ও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে গোপালগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ এই নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বিচারকের নাম মো. সুজন মিয়া, যিনি গোপালগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। বিচারকের আসন থেকে এমন অনাকাক্সিক্ষত ও সহিংস কাণ্ডে আদালতের আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে যথারীতি বিচারক মো. সুজন মিয়ার আদালতে মামলার শুনানি চলছিল। এ সময় কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি বা তর্কের একপর্যায়ে বিচারক উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি খাসকামরা/এজলাসের ডেস্কে থাকা ভারী কাঁচের পেপারওয়েটটি সামনের দিকে ছুঁড়ে মারেন। সেটি সরাসরি গিয়ে উপস্থিত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানের মাথায় আঘাত করে। এতে তাঁর মাথা ফেটে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি রক্তাক্ত হন।
সহকর্মী আইনজীবীরা তাত্ক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় সাবিহা সুলতানাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই আদালত চত্বরে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। একজন বিচারকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ আইনজীবীরা একজোট হয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়ার অবিলম্ব অপসারণ ও আইনি শাস্তির দাবিতে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছেন।
গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, আদালতের পবিত্রতা ও আইনি পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই বিচারকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাঁরা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবেন।

