সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা-কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ, এমন অভিযোগ উঠেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাদের আটক করা হয়। পরিচয় যাচাইয়ে বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পক্ষে বৈধ কোনো কাগজপত্র না পাওয়ায় পরে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) ভোরে সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি জানায়,আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুরুষ,সাতজন নারী ও একটি শিশু ছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করা হয়।
৫২ বিজিবির বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটক ১০ জনের পরিচয় যাচাই করা হলেও বাংলাদেশি নাগরিকত্বের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই বিজিবির বাধার মুখে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।
বিজিবির তথ্যমতে,পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা হলেন; রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলি খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)।
এদিকে,বৃহস্পতিবার রাতে ওই ১০ জনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজন নারীকে কান্নাকাটি করতে এবং তাদের ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানাতে দেখা যায়।
ওই ব্যক্তিদের দাবি,জীবিকার সন্ধানে তারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে ভারতের গুজরাটের বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান বলেন, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের বিষয়ে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি সব সময় সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

