নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে পানি আসা এবং দুঃখ-কষ্টে কান্না করা দেখতে একরকম মনে হলেও, বৈজ্ঞানিকভাবে এ দুটি প্রক্রিয়া এক নয়। চোখের পানি বিভিন্ন কারণে তৈরি হয় এবং প্রতিটির কার্যকারিতাও ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের চোখে মূলত তিন ধরনের পানি তৈরি হয়—বেসাল, রিফ্লেক্স এবং ইমোশনাল টিয়ার।
বেসাল পানি সবসময় অল্প পরিমাণে চোখে থাকে, যা চোখকে আর্দ্র রাখে এবং জীবাণু থেকে রক্ষা করে। রিফ্লেক্স পানি তৈরি হয় ধুলো, ধোঁয়া বা পেঁয়াজের গ্যাসের মতো জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করলে। এটি দ্রুত বেশি পরিমাণে বের হয়ে চোখকে পরিষ্কার করে।
অন্যদিকে ইমোশনাল টিয়ার তৈরি হয় দুঃখ, আনন্দ বা তীব্র আবেগের সময়। এতে কিছু বিশেষ প্রোটিন ও হরমোনজাতীয় উপাদান থাকতে পারে বলে গবেষণায় ধারণা পাওয়া গেছে, যা মানসিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, চোখের পানি তৈরি হয় ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি থেকে এবং এটি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের নির্দেশনায় নিয়ন্ত্রিত হয়। আবেগজনিত কান্নার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেম সক্রিয় থাকে, আর শারীরিক জ্বালাপোড়ার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজ কাটার সময় যে চোখের পানি বের হয় তা শুধুমাত্র রিফ্লেক্স প্রতিক্রিয়া, এতে আবেগজনিত কান্নার মতো রাসায়নিক উপাদান থাকে না।
সব মিলিয়ে চোখের পানি শুধু কান্না নয়, এটি চোখের সুরক্ষা, শরীরের প্রতিরক্ষা এবং আবেগ প্রকাশের একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।


