সত্যজিৎ দাস, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লামুয়া গ্রামে মক্তবে যাওয়ার পথে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়াকে (৪২) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়া একই এলাকার মৃত মুসলিম মাস্টারের ছেলে এবং এলাকায় সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়,সকালে শিশুটি দক্ষিণ লামুয়া মসজিদের মক্তবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়া মক্তবের ইমামের জন্য টিফিন পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে শিশুটিকে তার নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ঘরের দরজা আটকে শিশুটির ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর ভাষ্যমতে,”সকাল ৭টা থেকে প্রায় ৯টা পর্যন্ত তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনোয়ার বালিশ আনার জন্য ঘরের বাইরে গেলে সেই সুযোগে শিশুটি ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে আসে। পরে স্থানীয় লোকজন এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে শিশুটিকে অসুস্থ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি উপস্থিত সবার কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়।”
এদিকে দীর্ঘ সময় মেয়ে মক্তব থেকে বাড়ি না ফেরায় তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে কবরস্থানের পাশে মেয়ের এই করুণ দশা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ঘটনার জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত আনোয়ার মিয়াকে আটক করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই অমানুষিক ও বর্বর ঘটনার পর পুরো কালাপুর ইউনিয়নে ধিক্কার ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল আল মামুন জানান, “ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়রা এক ব্যক্তিকে আটকে রাখলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

