একসময় ফুটবলারদের পরিচয় ছিল মাঠের পারফরম্যান্স, চুলের স্টাইল কিংবা ট্যাটু দিয়ে। কিন্তু এখন সেই ধারা বদলেছে। বিশ্বের অনেক তারকা ফুটবলার মুখের সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসা বা ফেসিয়াল হারমোনাইজেশনের দিকে ঝুঁকছেন। এটি শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, বরং আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এবং স্পনসরদের আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলার এখন শুধু একজন খেলোয়াড় নন; তিনি একই সঙ্গে একজন ইনফ্লুয়েন্সার এবং বড় একটি ব্র্যান্ড। ম্যাচের বাইরে সাক্ষাৎকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন প্রচারণায় নিয়মিত উপস্থিতির কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে।
একাধিক ফুটবলারের চিকিৎসক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভিভিয়ান সিমোয়েস পিরেস বলেন, অনেক ফুটবলার শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত উন্নতির লক্ষ্যেও এই চিকিৎসা নেন। তাঁর মতে, ফেসিয়াল হারমোনাইজেশনের পর অনেক মানুষের কর্মজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞ জুলিয়ানা ট্রানকুইলিনি মনে করেন, শুধু সুন্দর দেখালেই হবে না; একজন ফুটবলারের নিজের গল্প, ব্যক্তিত্ব এবং ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল জাতীয় দলের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চেহারার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এছাড়া রাফিনিয়া, লেও পেরেইরা, পেদ্রো রাউল এবং সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার লুকাস লিমাও এই প্রসঙ্গে আলোচিত নাম। লুকাস লিমা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মুখাবয়বে পরিবর্তন এনেছেন এবং এটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসিয়াল হারমোনাইজেশন মূলত হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ব্যবহার করে মুখের বিভিন্ন অংশের ভারসাম্য ঠিক করা এবং বলিরেখা কমানোর একটি চিকিৎসা। প্রয়োজন অনুযায়ী বোটক্সও ব্যবহার করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার কারণে খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়ে না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তারা খেলায় ফিরতে পারেন।
তবে এই চিকিৎসার খরচও কম নয়। একজন রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী একটি সেশনের খরচ ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।
যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ফুটবলারকে এ নিয়ে সমালোচনা ও বিদ্রূপের মুখে পড়তে হয়, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে একটি বিষয় কখনো বদলায় না—একজন ফুটবলারের প্রকৃত মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত হয় তাঁর মাঠের পারফরম্যান্স, অর্জন এবং মানুষের মনে রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার দিয়েই; শুধু চেহারা দিয়ে নয়।

