এম.শাহীন আল আমীন, জামালপুর প্রতিনিধি :
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে দন্ডিত ও মাদক মামলায় কারাগারে আটক মাদক কারবারীদের জন্য উপহার সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারনে। ভ্রাম্যমান আদালতে দন্ডিত হলেই উপহার হিসেবে তাদের বাড়ীতে পৌছে দেওয়া হবে খাদ্য সামগ্রী।
মাদক মামলায় যারা কারাগারে আটক আছে তাদের পরিবারও এ সুবিধা পাবে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন এ ঘোষনা দেন।
জানা গেছে, শাহ জহুরুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দেওয়ানগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষনা দেন। এ বিষয়ে তিনি দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি, তরুন সমাজ ও সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন। ঘোষনার পরই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। গত তিন মাসে শতাধিক ভ্রাম্য আদালত পরিচালিত হয়েছে। ভ্রাম্য আদালতে ২ শতাধিক মাদককারবারীর সাজা ও অর্থদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। থানা পুলিশ, বিজিবি ও ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে বেশ কিছু মাদককারবারী।
পুলিশ ও বিজিবির হাতে গ্রেফতার ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। পূর্বের মাদক মামলায় পলাতক আসামীদেরও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদককারবারী হিসেবে যারা মোবাইল কোর্টে দন্ডিত ও মাদক মামলায় কারাগারে আটক ব্যাক্তির পরিবারের সদস্যরা যাতে খাবারে কষ্ট না পায় উপজেলা প্রশাসন এই ব্যাতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে।
এর অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন খাদ্য সহায়তা ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন। উপহার সামগ্রীতে ৫টি মৌলিক চাহিদার বিষয় প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।
সমকাল সাংবাদিক আব্দুর রেজ্জাক মিকা বলেন, উদ্যোগটি ব্যাতিক্রম। এর কোয়ালিটি বজায় থাকলে মাদক কারবারী অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের কষ্ট কম হবে। তাদের পরিবারের লোকজন বিপদগামী সদস্যদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। কারণ মাদককারবারী পরিবারের অশান্তির মূল কারণ।
প্রভাষক তারেক মাহমুদ বলেন, শাসন তাকেই সাজে, যিনি সোহাগ করেন। এর চমৎকার উদাহারণ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ঘোষনা। উপজেলা প্রশাসন যেমন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তেমনি সহায়তার হাতও বাড়িয়ে দিয়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে এই চেতনা বিদ্যমান থাকলে দেওয়ানগঞ্জ বাসী চমৎকার ফলাফল পাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, মাদককারবারীরা ধরা পড়লে বা দন্ডিত হলে বা মামলার আসামী হয়ে কারাগারে থাকলে অনেক পরিবারের শিশু সদস্যসহ খাদ্যাভাবে ভোগে। তখন অপরাধ জেনেও টাকা ধারদেনা করে আদালতের মাধ্যমে মাদককারবারী সদস্যকে জামিন করায়। জামিনে মুক্তি পেয়ে পরিবারের সংসার খরচ, ধারদেনা পরিশোধ ও মামলার খরচ যোগার করতে যেয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এর পর লাভের অংশ থেকেই মাদক সেবন শুরু করে। তাই দন্ডিত ও কারাগারে বন্দি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সকল মাদককারবারীর পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবে। তবে দ্বিতীয়বার ধরা পড়লে ঘোষিত সুযোগ থাকবেনা। তখন তাদের বিরুরদ্ধ কঠোর হবে আইন।
#

