মোঃ আমিরুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি;
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ী ইউনিয়নের মোল্লাহপাড়া গ্রামে মোল্লাহপাড়া ফায়েজ-এ রাব্বানীয়া খানকা শরীফের নামে ওয়াক্ফ করা জমি জবর দখল করে সেই জমিতে একটি মাদ্রাসা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তাদের কাজে বাধা দেয়ায় অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে ঘর নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।
এ নিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর থানায় অভিযোগ করে কোন ফল পাননি ভুক্তভোগীরা।
বুধবার বিকেলে পঞ্চগড় শহরের মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ওই জমির মালিক মাহবুব আলমের স্ত্রী নাজমা আক্তার।
নাজমা বেগম লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর মোল্লাহপাড়া ফায়েজ-এ রাব্বানীয়া খানকা শরীফের নামে আমার স্বামী মাহবুব আলম ও তার ভাই মতিউর রহমান ২৫ শতক জমি ওয়াক্ফ করে দেন। ওই জমিতে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। দলিল অনুযায়ী সেখানকার মোতওয়াল্লী হন মাহবুব আলম। গত বছরের ১৭ মার্চ খানকা শরীফের ঘর সংস্কার করতে গেলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ওই এলাকার মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলতামাস হোসেন লেলিনসহ কয়েকজন কাজ বন্ধ করে দেয়।
সেখানে নির্মাণ কাজের জন্য রাখা বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। সেখানে আবারও কাজ শুরু করলে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়ে যায়। এ নিয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
গত ১৩ এপ্রিল তারা ওয়াক্ফ করা সেই জমি জবর দখল করে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ শুরু করে। তাদের কাজে বাধা দিতে গেলে তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কাজ অব্যাহত রেখেছে।
বিষয়টি নিয়ে ১৬ এপ্রিল মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ, ওই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আলতামাস হোসেন লেলিন, মোহাম্মদ শহিদুল,মোহাম্মদ ইয়াকুব ও আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কিন্তু কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এখনও গায়ের জোরে তারা মাদ্রাসা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠ সমাধান চেয়েছেন।
এদিকে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাস হোসেন লেলিন বলেন, মাহাবুব আলম ও তার ভাই মতিউর রহমান খানকা শরীফ ও মাদ্রাসার নামে যে জমি ওয়াকফ করেছে সেই জমি অন্য জায়গায়।

