তানভীর তুহিন, স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গী এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গর্ভবতী নারীসহ তিন বোনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গর্ভবতী নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার দাবি করে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সদরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ইন্তাজ খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা লাভলি খাতুন জানান, তার বড় বোন পারভীন আক্তার উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গী এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন। ওই জমি থেকে তার বোনকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে প্রতিবেশীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল।
গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে পারভীন আক্তারের বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় পারভীন আক্তারকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছোট বোন ময়না আক্তারকেও মারধর করা হয়। হামলার সময় ময়নার পেটে লাথি মারা হলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এছাড়া ময়না আক্তারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং অপর বোন আছিয়া বেগমও হামলার শিকার হন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তিনি আরো জানান, হামলার সময় ময়না আক্তারের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় আহতদের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক ময়না আক্তারের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের বোন লাভলি খাতুন বাদি হয়ে ৯ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিকাশ বালাকে শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাকে ফরিদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

