মোঃ হারুন উর রশিদ, স্টাফ রিপোর্টার,
নীলফামারীর ডিমলায় সিজারিয়ান অপারেশনে চিকিৎসক এবং স্কয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর রাব্বিনা আক্তার সৃষ্টি নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের বাবা।
শনিবার দুপুরে জেলা শহরের একটি সাংবাদিক অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা রাবিউল ইসলাম এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।
রাবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গেল বছরের ৮আগষ্ট সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশেনের জন্য মেয়ে রাব্বিনা আক্তারকে ‘ডিমলা স্কয়ার ক্লিনিক’ ভর্তি করা হয় । চিকিৎসক আক্তারুজ্জামান আমার মেয়ের সিজার অপারেশন করেন। অপারেশনের পর প্রসূতি ও সন্তানের অবস্থা খারাপ হওয়ায় বিশেষ করে প্রসূতির পেটে প্রচন্ড ব্যথা হওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ১১ আগষ্ট রংপুরে স্থানান্তর করা হয় সেখানে চিকিৎসা চলাকালে এক্সরে রিপোর্টে মেয়ের মারাত্বক জটিলতা ধরা পড়ে।
তালুকদার হাসপাতালে পুনরায় অপারেশনে মেয়ের নার কেটে ফেলতে হয়। জানানো হয় ১৬ফিট নারের মধ্যে ১২ফিটও পচে গেছে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মেয়ের বাঁচার সম্ভাবনা কম।
রাবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্কয়ার ক্লিনিকে ভূল চিকিৎসার কারণে আমার মেয়ের এ অবস্থা হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৮এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আমার মেয়ে রাব্বিনা। এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলেও ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বরং ইউএনও ব্যবস্থা নিতে উদাসিনতা দেখাচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগে আরো বলেন, রংপুরে চিকিৎসা নেয়াকালে ডিমলা স্কয়ার ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজার নানা ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী দেখিয়েছেন এমনকি এখোনো হুমকী দিয়ে আসছেন। যথাযথ চিকিৎসা অভাবে আমার মেয়ের নার নষ্ট করে দিয়েছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। আমি এর বিচার চাই। জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শান্তি চাই। যেন আর কোন প্রসূতি মা যথাযথ চিকিৎসা অভাবে মারা না যায়।
বিষয়টি নিয়ে ক্লিনিক মালিক সফিয়ার রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এক বছরের আগের ঘটনা। আমার সঠিক জানা নেই। আমার ক্লিনিক ও রংপুরের ক্লিনিকের রিপোর্টে কি আছে সেটা দেখতে হবে। অপারেশন তো আমি করি নাই চিকিৎসক বলতে পারবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, আমি কি করতে পারি। এটা স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমি দেখবো।

