বিধান মন্ডল, ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের শাপলা মহিলা সংস্থার এসকেসিডিসি মিলনায়তনে আজ ‘Enhancing Protection of Child Sex Trafficking Survivors in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর সদরে অবস্থিত শাপলা মহিলা সংস্থার শাপলা কুঁড়ি শিশু বিকাশ কেন্দ্রের মিলনায়তনে ফ্রিডম ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় এবং শাপলা মহিলা সংস্থার আয়োজনে এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভেকেসি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
সভার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য শাপলা মহিলা সংস্থার ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্যামল প্রকাশ অধিকারী বলেন, যৌনপল্লীর শিশু ও নারীদের আইনি সহায়তার অভাব, অবহেলিত জীবনমান এবং সরকারি-বেসরকারি সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, পাচার হওয়া শিশুদের বয়স জালিয়াতি এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বাড়িওয়ালাদের অসহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।
সভায় ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী খান (বুলু) বলেন, “নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ভুয়া কাগজ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে যৌনকর্মে নিয়োজিত করার আইনি কোনো ভিত্তি নেই। আমরা আগামী মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করব এবং প্রজ্ঞাপন জারির ব্যবস্থা নেব যাতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কেউ বয়স বাড়িয়ে নিতে না পারে।”
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাউশুদা হোসেন শাপলা মহিলা সংস্থার কাজের প্রশংসা করে বলেন, “আগ্রহী সারভাইভারদের জন্য আমাদের দপ্তর থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সি এন্ড বি ঘাটে স্থাপিত আমাদের ‘হাব’ থেকে তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, “যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালারা যদি সংস্থার কর্মীদের কাজে বাধা দেয়, তবে তাদের তালিকা আমাদের দিন। আমরা প্রশাসনিকভাবে এর ব্যবস্থা নেব। এছাড়া ভুয়া নোটারির বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে আমরা কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করব।”
শাপলা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মন্ডলের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী খান (বুলু), মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাউশুদা হোসেন প্রমুখ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শাপলা মহিলা সংস্থার ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্যামল প্রকাশ অধিকারী, মনিটরিং অফিসার বিধান চন্দ্র রায়, ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমার বাড়ৈ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার
এম.এ নাহার, ফরিদপুর পৌরসভার সেনেটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মামুন হোসেন, ফরিদপুর জজকোর্টের আইনজীবী ও নোটারি পাবলিক শম্পা চক্রবর্তী, ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তরুণ সরকার।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শাপলা মহিলা সংস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমল কান্তি ভট্টাচার্য্য।

