নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কাকরাইলে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মঞ্জু। চিকিৎসকের বরাতে তারা জানান, নুরকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান বলেন, “ডাক্তাররা জানিয়েছেন নূরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে, বাঁচবে কিনা জানি না।” তিনি আরও বলেন, নূরের ওপর হামলার দায় সেনাপ্রধান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে নিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনাপ্রধান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টাকে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে, না হলে যমুনা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
রাশেদ আরও দাবি করেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে মজিবর রহমান মঞ্জু জানান, নূরকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার দুপুর ২টায় একটি সর্বদলীয় সভা আহ্বান করা হবে, যা গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে হতে পারে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে রাত সোয়া ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
রক্তাক্ত অবস্থায় নুরকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত ৯টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষ চলাকালে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

