সৌদি আরবে কর্মরত বিভিন্ন দেশের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য এক বড় সুখবর দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। নতুন এক রাজকীয় ঘোষণায় জানানো হয়েছে, হজ পালনের উদ্দেশ্যে কর্মীরা এখন থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেতনসহ ছুটি পাওয়ার অধিকারী হবেন। সৌদি শ্রম আইনের আওতায় কর্মীদের ধর্মীয় অধিকার সুসংহত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীরা টানা ১০ থেকে ১৫ দিনের এই বিশেষ ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে:
সংশ্লিষ্ট কর্মীকে তাঁর বর্তমান প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ধারাবাহিক দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন কর্মী তাঁর পুরো চাকরি জীবনে শুধুমাত্র একবারই এই বিশেষ হজ ছুটি নিতে পারবেন। এই সুবিধা কেবল সেই কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যারা আগে কখনও হজ পালন করেননি।
প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কাজের গতিশীলতা বজায় রাখতে কিছু বিষয় নিয়োগকর্তার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন ও প্রয়োজন বিবেচনা করে মালিকপক্ষ নির্ধারণ করবেন যে, প্রতি বছর কতজন কর্মী এই ছুটির আওতায় হজে যেতে পারবেন। অর্থাৎ, কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকটি বিবেচনায় রেখেই ছুটির সংখ্যা সীমিত রাখা হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, এই ১৫ দিনের ছুটির মধ্যে ঈদুল আজহার নিয়মিত ছুটিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সৌদি সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের ফলে দেশটিতে কর্মরত লাখ লাখ মুসলিম শ্রমিকের জন্য তাঁদের অন্যতম ধর্মীয় স্তম্ভ হজ পালন করা আরও সহজতর হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্তে ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

